বিবাহ যদি একটি চুক্তি হয়, তবে চুক্তির সম্পর্কের তাৎপর্য কী? কী এটিকে চুক্তির সম্পর্ক করে তোলে, আর অন্য যেকোনো সম্পর্ক থেকে এটি কীভাবে আলাদা? বিবাহের স্থায়িত্ব বুঝতে এবং সমস্যাগ্রস্ত বিবাহের উত্তাল পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিতে হলে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
আমাদের সমাজে চুক্তি ধারণাটি সেকেলে হয়ে পড়েছে। ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক বিপ্লব বিবাহবিচ্ছেদকে সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে, আর বিবাহে আজীবন বিশ্বস্ততা নিয়মের বদলে ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুঃখজনকভাবে, এই কলঙ্ক মূলধারার অধিকাংশ গির্জাকে সংক্রমিত করেছে এবং বর্তমানে আমাদের অ্যানাব্যাপ্টিস্ট গির্জাগুলোতেও প্রবেশ করছে।
চুক্তি ঈশ্বরের ধারণা। তিনিই প্রধান চুক্তি-স্থাপনকারী। তাঁর পবিত্র নাম “যিহোবা” নির্দেশ করে যে ঈশ্বর সর্বদা তাঁর বাক্যে সত্যনিষ্ঠ। “যিহোবা” নামটির হিব্রু উৎস ইয়েহ-হো-ভা। এই শব্দটি অস্তিত্ব বোঝানো দুটি হিব্রু ক্রিয়াপদের সমন্বয়ে গঠিত। ইয়েহ-হো-ভা নামটির সবচেয়ে আক্ষরিক অনুবাদ হবে “আছেন আছেন”, অথবা ঈশ্বর মোশিকে যেমন বলেছিলেন, “আমি যে আছি সেই আমিই।”
ঈশ্বরের “যিহোবা” নামটি নির্দেশ করে যে ঈশ্বর সর্বদা তাঁর বাক্যে সত্যনিষ্ঠ, তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না এবং তিনি তাঁর স্বভাবের প্রতি সত্যনিষ্ঠ। যাকোব এভাবে বলেছেন: প্রত্যেক উত্তম দান ও প্রত্যেক সিদ্ধ দান ঊর্ধ্ব হইতে, জ্যোতির্গণের পিতা হইতে, নামিয়া আসে; তাঁহার মধ্যে পরিবর্তন নাই, পরিবর্তনজনিত ছায়া নাই—যাকোব ১:১৭।
কী একটি চুক্তি গড়ে তোলে?
শাস্ত্র সতর্কভাবে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, একটি চুক্তি প্রতিষ্ঠার তিনটি মূল উপাদান রয়েছে।
- কথা
- সাক্ষী
- চুক্তিকে অনুমোদনকারী বিষয়
কথা
কথা একটি চুক্তির শর্তাবলি নির্ধারণ করে। চুক্তির শর্তাবলি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ও সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের বোধগম্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বর যখন অব্রাহামের সঙ্গে চুক্তি করলেন, তখন তিনি বললেন, আর আমি তোমার ও তোমার পরবর্তী বংশধরের সহিত তোমার চুক্তি স্থাপন করিব, তাহা পুরুষানুক্রমে চিরস্থায়ী চুক্তি হইবে; আমি তোমার ও তোমার পরবর্তী বংশধরের ঈশ্বর হইব—আদিপুস্তক ১৭:৭।
ঈশ্বর যখন সিনয় পর্বতে ইস্রায়েল জাতির সঙ্গে চুক্তি করলেন, তখন তিনি তাদের বিধান দিলেন, যা ছিল মোশির চুক্তির শর্তাবলি।
আজ আমাদের বাইবেলে পুরাতন ও নতুন নিয়ম রয়েছে। এগুলো পুরাতন ও নতুন চুক্তিকে নির্দেশ করে। নতুন নিয়মে যিশু ও তাঁর প্রেরিতদের শিক্ষা রয়েছে, যা পুরাতন নিয়মের বিধানকে অতিক্রম করে। পর্বত-উপদেশে যিশু বারবার বলেছিলেন, “তোমরা শুনিয়াছ যে বলা হইয়াছে, কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি।”
নতুন চুক্তি সম্পর্কে ইব্রীয়দের প্রতি পত্রের লেখক এ কথা বলেছেন: কিন্তু এখন তিনি তত উৎকৃষ্ট পরিচর্যাপদ পাইয়াছেন, যত উৎকৃষ্ট নিয়মের তিনি মধ্যস্থ, যে নিয়ম উত্তম প্রতিজ্ঞার উপরে স্থাপিত হইয়াছে—ইব্রীয় ৮:৬।
আমাদের বিবাহের দিনে আমরা সুস্পষ্ট অর্থবোধক কথা ব্যবহার করে এমন এক বাধ্যতামূলক চুক্তি স্থাপন করি, যা “মৃত্যু আমাদের বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত” বলবৎ থাকে। বিবাহের অঙ্গীকারে কিছু তারতম্য থাকতে পারে, তবে তাতে সবসময় এমন পারস্পরিক প্রেমময় সম্পর্কে অঙ্গীকার থাকা উচিত, যা আজীবনের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তাই প্রত্যাহার-অযোগ্য।
সাক্ষী
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সাক্ষীরা। সাক্ষীরা করা অঙ্গীকারের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করেন। দুই ব্যক্তির মধ্যে করা চুক্তির ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য।
যিহোশূয় যখন কনান দেশে প্রবেশের পর ইস্রায়েলের সঙ্গে চুক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলেন, তখন তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ জানালেন: আর যিহোশূয় লোকদিগকে কহিলেন, তোমরা আপনাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী যে, তোমরা সদাপ্রভুকে বরণ করিয়াছ, তাঁহার সেবা করিবার জন্য। তাহারা কহিল, আমরা সাক্ষী—যিহোশূয় ২৪:২২। তারা যা বলছিল, তা হলো, “আজ আমরা যে অঙ্গীকার করছি, তার জন্য আমরা একে অপরকে জবাবদিহি করাব।”
নতুন চুক্তির বিষয়ে আমাদের কাছে প্রেরিত যোহনের সাক্ষ্য রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: কারণ স্বর্গে তিন জন সাক্ষ্য দেন—পিতা, বাক্য ও পবিত্র আত্মা; আর এই তিন এক। আর পৃথিবীতে তিন জন সাক্ষ্য দেন—আত্মা, জল ও রক্ত; আর এই তিনের সাক্ষ্য এক—১ যোহন ৫:৭-৮। এখানে যোহন বলছেন, ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে এই নতুন চুক্তিতে স্বর্গে তিনজন এবং পৃথিবীতে তিনজন সাক্ষী আছেন, আর এই সাক্ষীদের সাক্ষ্য একমত।
বিবাহ-চুক্তি প্রতিষ্ঠার সময় বিবাহের অতিথিরাই সাক্ষী। প্রত্যেক অতিথি করা অঙ্গীকারের সাক্ষী হন। তাঁদের উপস্থিতি ও আশীর্বাদের মাধ্যমে তাঁরা বিবাহকে সত্যায়িত করেন এবং এই বিবাহ স্থায়ী হয় তা নিশ্চিত করার ব্যক্তিগত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিবাহের স্থায়িত্বের প্রতি এই সমাজগত অঙ্গীকারই আমাদের সমাজ ও গির্জার নৈতিক ভিত্তি। কোনো সমাজ যখন বিবাহের স্থায়িত্ব রক্ষায় অবহেলা করে, তখন বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। আমাদের চারপাশের সমাজে আমরা তা দেখতে পাই। দুঃখজনকভাবে, আমাদের অ্যানাব্যাপ্টিস্ট গির্জাগুলোর মধ্যেও বিবাহ ভেঙে যাওয়ার সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে দেখছি।
চুক্তিকে অনুমোদনকারী বিষয়
চুক্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত ধাপ হলো এমন কিছু, যা চুক্তির শর্তাবলিকে অনুমোদন করে এবং বাধ্যতামূলক ও কার্যকর করে তোলে। ইতিহাসে চুক্তি বাঁধার নানা পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। প্রাচীন বেদুইনদের মধ্যে চুক্তি বাঁধতে লবণ ব্যবহারের রীতি ছিল। প্রত্যেক পক্ষ অপর পক্ষকে কিছু পরিমাণ লবণ দিত। সেই লবণ তাদের নিজ নিজ লবণের ভাণ্ডারে মিশিয়ে দেওয়া হতো, ফলে “আমার লবণ” ও “তোমার লবণ” কখনো আলাদা করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। এটি চুক্তিটির অপরিবর্তনীয়তার প্রতীক ছিল।
এরপর ছিল বেরিথ-এর রীতি। বেরিথ একটি হিব্রু শব্দ, যার অর্থ “কাটা”। প্রাচীন ইস্রায়েলে “চুক্তি কেটে” চুক্তি অনুমোদন করা হতো। আদিপুস্তক ১৫ অধ্যায়ে এই রীতির স্পষ্ট দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে ঈশ্বর অব্রাহামের সঙ্গে তাঁর চুক্তি অনুমোদন করেছিলেন। অব্রাহাম ঈশ্বরকে জিজ্ঞাসা করলেন, …হে প্রভু সদাপ্রভু, আমি যে তাহার অধিকারী হইব, ইহা কিসে জানিব?—আদিপুস্তক ১৫:৮। অব্রাহামের মিনতির উত্তরে ঈশ্বর বললেন, …তুমি আমার জন্য তিন বৎসর বয়স্কা এক গাভী, তিন বৎসর বয়স্কা এক ছাগী, তিন বৎসর বয়স্ক এক মেষ, এক ঘুঘু ও এক কপোতশাবক লইও—আদিপুস্তক ১৫:৯। অব্রাহাম এই পশুগুলো নিয়ে মাঝখান দিয়ে ভাগ করে ঈশ্বরের উদ্দেশে বলিরূপে সাজিয়ে রাখলেন। ঈশ্বর (কথার মাধ্যমে) অব্রাহামের সঙ্গে তাঁর চুক্তি পুনর্নিশ্চিত করলেন, তারপর ১৭ পদে আমরা এই রহস্যময় ঘটনা দেখতে পাই: পরে সূর্য অস্ত গেলে অন্ধকার হইল, আর দেখ, এক ধূমময় উনুন ও এক জ্বলন্ত মশাল সেই খণ্ডগুলির মধ্য দিয়া চলিয়া গেল—আদিপুস্তক ১৫:১৭। এটাই ছিল “বেরিথ” বা “চুক্তি কাটা”। এই অনুষ্ঠান চুক্তির শর্তাবলিকে অনুমোদন করে বাধ্যতামূলক করে তুলেছিল। এই ঘটনার পর ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা নিয়ে অব্রাহামের প্রশ্ন বা সন্দেহের কোনো বিবরণ আমরা পাই না, যদিও সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করার জন্য তিনি নিজেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
ঈশ্বর যখন সিনয় পর্বতে ইস্রায়েলের সঙ্গে চুক্তি করলেন, তখন …মোশি সেই রক্ত লইয়া লোকদের উপরে ছিটাইয়া দিলেন, এবং কহিলেন, দেখ, এই সকল বাক্য সম্বন্ধে সদাপ্রভু তোমাদের সহিত যে নিয়ম স্থাপন করিয়াছেন, ইহাই সেই নিয়মের রক্ত—যাত্রাপুস্তক ২৪:৮। এই রক্ত বিধানে নির্ধারিত শর্তাবলিকে বাধ্যতামূলক ও কার্যকর করেছিল—এটাই ছিল পুরাতন চুক্তি।
ঈশ্বর যখন কালভারি পর্বতে আপনার ও আমার সঙ্গে চুক্তি করলেন, তখন যিশুর রক্ত তাঁর সঙ্গে আমাদের নতুন চুক্তির অনুমোদনকারী প্রমাণ বা বাধ্যতামূলক নিদর্শনে পরিণত হলো। আমরা যখন প্রভুভোজে অংশ নিই, তখন খ্রিষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি রয়েছে, তা স্মরণ করি।
বিবাহ-চুক্তিকে কী অনুমোদন করে? আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি, বিবাহে কথা (অঙ্গীকার) ও সাক্ষী (অতিথি) থাকে। তাতেই কি বিবাহ সম্পূর্ণ হয়? না। শারীরিক অন্তরঙ্গতায় মিলন না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ সম্পূর্ণ হয় না। এতে বিবাহ-চুক্তি পূর্ণ হয়, বা আমরা যেমন বলে থাকি, বিবাহ-চুক্তির পরিণতি ঘটে। এই মিলনই বিবাহ-চুক্তির শর্তাবলিকে অনুমোদন করে এবং বাধ্যতামূলক ও স্থায়ী করে তোলে। শাস্ত্রের প্রথম দিকেই এর উদাহরণ আছে: আর আদম আপন স্ত্রী হবার সহিত সহবাস করিলেন… আদিপুস্তক ৪:১। পরে আমরা আরেকটি উদাহরণ দেখি: আর ইস্হাক রিবিকাকে লইয়া আপন মাতা সারার তাম্বুতে প্রবেশ করিলেন, এবং রিবিকাকে গ্রহণ করিলেন, আর তিনি তাঁহার স্ত্রী হইলেন; এবং তিনি তাঁহাকে প্রেম করিলেন…—আদিপুস্তক ২৪:৬৭। শারীরিক একত্ব চুক্তিরই অংশ। এ কারণেই বিবাহের বাইরে এমন সম্পর্ক পাপ। ব্যভিচার বা অবৈধ যৌনসম্পর্ক বিবাহের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য ঈশ্বর যা নির্ধারণ করেছেন, তা কেড়ে নিয়ে চুক্তিকে কলুষিত করে।
বিবাহিত দম্পতি যখন শারীরিক মিলনে মিলিত হন, তখন তাঁরা তাঁদের বিবাহ-চুক্তি স্মরণ ও উদ্যাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা বাইবেলসম্মত “এক দেহ” বাস্তবতা প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন। এই আশীর্বাদময় মিলন থেকে অমূল্য “ছোট্ট সোনামণিদের” রূপে নতুন প্রাণের জন্ম হয়, আর প্রেমের শক্তিতে হৃদয়ও নতুন হয়ে ওঠে।
আমরা যখন প্রভুভোজের রুটি ও দ্রাক্ষারসে অংশ নিই, তখন খ্রিষ্টের সঙ্গে আমাদের চুক্তির সম্পর্ক স্মরণ ও উদ্যাপন করি। এই আশীর্বাদময় একত্ব থেকে প্রেমের শক্তিতে নতুন হয়ে ওঠা হৃদয়ের রূপে নতুন জীবন আসে। এটাই চুক্তির শক্তি।
এই তিনটি উপাদান—অঙ্গীকার, সাক্ষী এবং অনুমোদনকারী বিষয়—যেখানে বিদ্যমান, সেখানেই চুক্তির সম্পর্ক রয়েছে। অন্য যেকোনো সম্পর্ক থেকে চুক্তির সম্পর্ক কীভাবে আলাদা?
বিশ্বস্ত থাকার অঙ্গীকার
মানুষের মুখে উচ্চারিত সবচেয়ে মহৎ কথাগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো, “মৃত্যু আমাদের বিচ্ছিন্ন না করা পর্যন্ত তোমাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা করছি।” বিবাহের দিনে এই কথাগুলো বলা সহজ, আর বলার সময় আমরা হয়তো আন্তরিকও থাকি। কিন্তু সত্য হলো, সারা জীবনে এই কথাগুলোর জন্য কী মূল্য দিতে হতে পারে, তা কেউই আগেভাগে জানতে পারে না।
ভালোবাসা একটি সিদ্ধান্ত, এবং তা প্রতিদিনের জীবনযাপনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে স্থায়ী হতে হবে। আমাদের চুক্তিবদ্ধ ভালোবাসার সঙ্গীর প্রতি স্নেহ নিবদ্ধ করার এবং অন্যদের প্রলোভন থেকে তা সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অসংখ্য বিবাহ অবিশ্বস্ততার কারণে ধ্বংস হয়ে যায়।
ঈশ্বর বিবাহকে শক্তিশালী বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য পরিকল্পনা করেছেন। বিবাহের আধ্যাত্মিক, আবেগিক ও শারীরিক বন্ধন এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক সৃষ্টি করে। আদিপুস্তকে আমরা পড়ি, এই কারণ মনুষ্য আপন পিতা মাতাকে ত্যাগ করিয়া আপন স্ত্রীতে আসক্ত হইবে, এবং তাহারা একাঙ্গ হইবে—আদিপুস্তক ২:২৪। এই পদে আসক্ত শব্দটি এমনভাবে “ঝালাই হয়ে বা আঠা দিয়ে জুড়ে যাওয়া” বোঝায়, যাতে বিচ্ছিন্ন করা যায় না।
অবিশ্বস্ততার মাধ্যমে বিবাহবন্ধন ভাঙলে উভয় পক্ষই ছিন্নভিন্ন ও ক্ষতবিক্ষত হয়। মহাপ্রতারক শয়তান আমাদের বিশ্বাস করাতে চায় যে জীবনসঙ্গীর প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়া কোনোভাবে আমাদের উপকার করবে। এটি এক বিরাট মিথ্যা।
বিশ্বস্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার
ঈশ্বর তাঁর পুরাতন নিয়মের কনে—ইস্রায়েল জাতির—সঙ্গে আচরণে চুক্তির বিশ্বস্ততা দেখিয়েছেন। সে তার চুক্তির অঙ্গীকারে বিশ্বস্ত ছিল না। সে যিহোবার উপাসনা থেকে মুখ ফিরিয়ে পৌত্তলিক বেদির সামনে নত হয়েছিল। তার অবিশ্বস্ততা সত্ত্বেও ঈশ্বর তাকে খুঁজে যেতে এবং তাঁর কাছে ফিরে আসতে আহ্বান করতে থাকলেন। ইস্রায়েলের অবিশ্বস্ততা ঈশ্বরের বিশ্বস্ততাকে বদলায়নি। এটাই চুক্তির ভালোবাসার শক্তি। চুক্তির ভালোবাসা অপর পক্ষের কাজকর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়। প্রতিদান না পেলেও চুক্তির ভালোবাসা অব্যাহত থাকে। এ এক রাজ্যগত ধারণা। পৌল শিক্ষা দিয়েছেন, অতএব তোমার শত্রু ক্ষুধিত হইলে তাহাকে ভোজন করাও; পিপাসিত হইলে তাহাকে পান করাও; কেননা তাহা করিলে তুমি তাহার মস্তকে জ্বলন্ত অঙ্গার রাশি করিয়া রাখিবে—রোমীয় ১২:২০। ভেঙে যাওয়া বিবাহের ক্ষেত্রে কি এই নীতি সবচেয়ে যথাযথভাবে প্রযোজ্য নয়?
ঈশ্বরের আমাদের প্রতি ঐশ্বরিক ভালোবাসা বুঝলেই কেবল চুক্তির শক্তি পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা যায়। আমাদের পরিত্রাণ আমাদের প্রতি ঈশ্বরের নিখুঁত ভালোবাসার ওপর নির্ভরশীল। তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা কখনো কখনো ত্রুটিপূর্ণ হলেও তিনি আমাদের ভালোবেসে চলেন। তাঁর অব্যর্থ ভালোবাসা আমাদের তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে থাকে। বিবাহে চুক্তির শক্তি নিহিত রয়েছে এই ঐশ্বরিক ভালোবাসার অনুকরণ করতে চাওয়ার মধ্যে। রোমান্টিক উপন্যাস বা বিবাহবিষয়ক অন্যান্য বইয়ে এই ঐশ্বরিক ভালোবাসা পাওয়া যাবে না। এই ঐশ্বরিক ভালোবাসা পাওয়া যায় কেবল অবিনাশী ভালোবাসার “উৎস”-এর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে।



