তার বালিশ ভিজে ছিল, অশ্রু ঝরছিল অবিরাম,
আহা! দিন কোথায়? এই রাত যেন কাটতেই চায় না।
কত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে; কখনো ভুলবে না আর।
স্ত্রী আর সন্তানদের কথা—আহা, কী অনুশোচনা!
(হারালে তবেই বোঝা যায়, কী ছিল তোমার কাছে।)
ভোরের অপেক্ষায় সে বোতলের দিকে হাত বাড়ায়।
দিন যায়, দিন আসে, সব যেন ঝাপসা লাগে তার।
কীভাবে সব ঠিক হবে—উত্তর চাই তার।
‘প্রতিবেশীদের কাছে যাও,’ ক্ষীণ এক কণ্ঠ সে শোনে।
‘কিন্তু সে তো খ্রিস্টান!’ ভাবনাটা অদ্ভুত মনে হয়।
‘তার কাছে উত্তর আছে, দেরি কোরো না আর!’
যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সে, তবে আজ নয়।
বিছানায় শুয়ে রইল, বোঝা তার অসহনীয় ভার।
‘প্রতিবেশীদের কাছে যাও, এখনো দেরি হয়নি!’
ডাকটা এত প্রবল, মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ায় সে,
বুট পরে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।
প্রতিবেশী ঘরেই ছিল, মুখে উষ্ণ হাসি;
যিশুর কথা বলল তাকে—তিনি তার জীবন বদলে দেবেন।
তার বলা কথাগুলো সত্যি বলে মনে হলো না প্রায়।
সবই যেন স্পষ্ট! ভেঙে পড়ে সে কাঁদে।
ঈশ্বরের ভালোবাসা ভরিয়ে দিল তার অভাবী প্রাণ,
নিঃসন্দেহে জানল, সে সম্পূর্ণ হয়েছে।
এক মুহূর্ত দেরি না করে স্ত্রীকে ফোন করে সে বলে,
“ওহ, দয়া করে ঘরে ফিরে এসো, ঈশ্বর ঘৃণা দূর করেছেন!”
পরিবার পাশে, তার পাপ সমুদ্রে বিলীন,
ঈশ্বর তাকে যে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন, সেই মানুষ হতে আর তর সইছিল না তার।


