তুমি কি ভালো জীবন যাপন করতে চাও? সত্যিই জীবন উপভোগ করার জন্য তোমার কী অভিজ্ঞতা অর্জন করা বা কী সম্পন্ন করা দরকার বলে মনে হয়? অনেকের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হলো আনন্দ খোঁজা এবং মজা করা। তা অর্জন করতে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করা হয়। কিন্তু আমরা কি তা অর্জন করতে পারি? আমাদের স্বাভাবিক চিন্তায় মনে হয়, আমাদের খুশি করার জন্য পরিস্থিতি ঠিকঠাক হওয়া দরকার। কিন্তু আমরা সবাই জানি, পরিস্থিতি সব সময় আদর্শ থাকে না। তাই আমাদের সুখের জন্য সেগুলোর ওপর নির্ভর করা যায় না। আমাদের এর চেয়ে বড় কিছু দরকার। অথবা কারও।
নিশ্চয়ই, আমরা জানি যে একমাত্র ঈশ্বরই কখনো পরিবর্তন হন না এবং সর্বদা বিশ্বস্ত। ঈশ্বরের আরেকটি বিষয় হলো, তিনি সার্বভৌম। অন্য কথায়, তিনিই কর্তৃত্বে আছেন। কিন্তু আমরা স্বাধীনতা পছন্দ করি; আমরা চাই, সবকিছু এমনভাবে ঘটুক যা আমাদের ভালো লাগে। জীবন যখন সেভাবে চলে না, তখন আমাদের একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা কি ঈশ্বরের সম্পূর্ণ স্বরূপ—তাঁর অপরিবর্তনীয়তা ও সার্বভৌমত্ব, উভয়ই—মেনে নেব, নাকি ভালো জীবন পাওয়ার চেষ্টায় নিজেদের ইচ্ছামতো চলার জন্য লড়াই করব?
আনন্দের মূল উৎস স্বয়ং ঈশ্বর। কারণ তিনি আমাদের নিজের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন যেন আমরা তাঁকে আনন্দ দিই, কিন্তু আমাদের মনে হয়, নিজেদের আনন্দ দেওয়া দরকার। এর শুরু হয়েছিল এদন উদ্যানে, যখন সর্প হবাকে বুঝিয়েছিল যে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার চেয়ে নিজেকে সন্তুষ্ট করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই থেকে মানুষ নিজেদের হৃদয়ের ভেতরে এবং বাইরে, অন্যদের সঙ্গে, যুদ্ধে লিপ্ত। নিজেদের জন্য আনন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টায় তারা তা পায় না, কারণ তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার জন্য।
এই যুদ্ধের সমাধান যাকোব ৪ অধ্যায়ে পাওয়া যায়। বিষয়টি সহজ: ঈশ্বরের বশীভূত হও। তাঁর সামনে নিজেদের নত করো। তিনি আমাদের কাছে অতিরিক্ত কিছু চাইছেন না, কারণ তিনি সার্বভৌম। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তাই আমরা কীভাবে জীবনযাপন করব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার তাঁরই। যদি আমরা সত্যিই জীবনে আনন্দ খুঁজে পাই, তবে তা হবে নিজেদের জীবন ও আকাঙ্ক্ষাকে ক্রুশে তুলে ঈশ্বর এবং আমাদের জন্য তাঁর আদি উদ্দেশ্যের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার মাধ্যমে। এটি আমাদের সীমাবদ্ধ না করে বরং সুযোগ ও সম্ভাবনার এক জগৎ খুলে দেয়। এর অর্থ এই নয় যে ঈশ্বর চান বলে আমাদের কাজগুলো করতে হবে। ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অর্থ, তিনি আমাদের যা করতে চান, আমরাও তা-ই করতে চাই।
উপাসনা ও কৃতজ্ঞতা
যখন আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্ম হই, তখন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে যায়। যা কিছু আদর্শ নয়, তা নিয়ে আক্ষেপ করার বদলে আমরা দেখতে শুরু করি, কত কিছু সত্যিই আশীর্বাদ। আমরা যে সব ভালো বিষয় উপভোগ করি, সেগুলোর জন্য উপাসনা ও কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হৃদয় রাখতে পারি। আমরা বুঝতে পারি, আমরা আসলে কতটা অযোগ্য। কোনো ভালো কিছুরই আমরা যোগ্য ছিলাম না, তবু ঈশ্বর আমাদের উপভোগ করার জন্য কত কিছু দিয়েছেন!
বর্তমানে বেঁচে থাকা
তরুণী হিসেবে আমাদের কল্পনায় ডুবে থাকতে, আদর্শ ও মনোরম এক ভবিষ্যতে বেঁচে থাকতে প্রবণতা আছে। বর্তমানের অপূর্ণ বাস্তবতায় বেঁচে থাকা এবং তাতেই আনন্দ খুঁজে পাওয়া কখনো কখনো আমাদের জন্য কঠিন হয়। কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছা যখন আমাদের ইচ্ছা হয়ে ওঠে, তখন সত্যিকারের আনন্দ আসে, কারণ আমরা তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ করছি।
যেকোনো পরিস্থিতিতে, এমনকি একঘেয়ে জীবনেও, আমরা আনন্দ অনুভব করতে শিখতে পারি। আমরা একঘেয়ে জীবন কাটাতে ভয় পাই। আমরা চাই জীবন রোমাঞ্চকর হোক। কিন্তু ঈশ্বর চান আমরা তাঁকে সন্তুষ্ট করি, আর তা করলে পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমরা আনন্দ অনুভব করি। তবে তখন তাঁর রাজ্যের সেবায় আমাদের ব্যবহার করার জন্যও আমরা প্রস্তুত থাকি, আর তিনি হয়তো আমাদের রোমাঞ্চকর সুযোগের দিকে ডাকবেন। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে তাঁর ইচ্ছার বশীভূত হতে না শিখলে, রোমাঞ্চকর অভিযানে আমরা কার্যকর হতে পারব না।
সম্পর্ক
বর্তমানে ঈশ্বর আমাদের যেখানে রেখেছেন, সেখানেই যখন আমরা আনন্দ ও সন্তুষ্টি খুঁজে পাই, তখন আমাদের জীবনে এখন যারা আছেন, তাঁদের সঙ্গে দৃঢ় ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলায় মনোযোগ দিতে পারি। ঈশ্বর আমাদের সামাজিক জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, আর ভালো সম্পর্ক আমাদের সত্যিকারের আনন্দ দেবে। অন্যদের কাছে পৌঁছাতেও ঈশ্বর আমাদের ব্যবহার করতে পারেন। আমরা যখন তাঁর সঙ্গে একাত্ম হই, তখন আমাদের মনোযোগ আর নিজেদের ওপর থাকে না, বরং অন্যদের ওপর থাকে। ঈশ্বরের জীবন আমাদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, আর এর মাধ্যমে আমরা অন্যদের তাঁকে পাওয়ার পথ দেখাতে পারি এবং তা করতে গিয়ে আনন্দ ও পরিতৃপ্তিও লাভ করতে পারি।
আবেগ
আমাদের আরেকটি প্রবণতা হলো, আবেগকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া। আর আনন্দ পাওয়ার জন্য আমরা যদি পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে থাকি, তাহলে আবেগ লাগামছাড়া হয়ে যাবে। তখন মুহূর্তে যা ঘটছে, তার দ্বারা পরিচালিত অনুভূতির এক রোলার কোস্টারে আমরা ওঠানামা করতে থাকব। এরপর আমরা স্বপ্নের জগতে পালিয়ে যাই, যা বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিকৃত করে। কিন্তু ঈশ্বর অবিচল, আর আমরা যখন তাঁর সঙ্গে একাত্ম হই, তখন তিনি আমাদের স্থিরতা ও বিশ্রাম দেন। ফলে চিরপরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতেও আমরা সর্বদা বিদ্যমান আনন্দ অনুভব করতে পারি।
আসুন, আমরা তাঁর সঙ্গে ক্রমেই আরও একাত্ম হতে থাকি। আর তিনি আমাদের সমগ্র যাত্রাপথে স্বর্গীয় সূর্যালোক দেবেন—পৃথিবীর পরিস্থিতিতে যা বদলায় না, আর তাঁকে মুখোমুখি দেখলে যা পূর্ণরূপে উপলব্ধ হবে। …তোমার উপস্থিতিতে আনন্দের পূর্ণতা; তোমার ডান হাতে চিরকালীন আনন্দ। –গীতসংহিতা ১৬:১১।


