এলি নিজের চেয়ারটি রান্নাঘরে গল্প করতে থাকা বড়দের আরও কাছে টেনে নিল। দাদা, দাদী ও লিলি মাসি বেড়াতে এসেছিলেন। যদিও সে সবসময় তাঁদের কথোপকথন বুঝত না, তবু শুনতে ভালোবাসত। সে দেখেছিল, এভাবে অনেক কিছু শেখা যায়।
সেদিন সন্ধ্যায় গির্জা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল, আর তা শুনে তার মনে রবিবার সকালের উপাসনায় গান গাওয়ার কথা এল। এলির বয়স মাত্র পাঁচ বছর হলেও সে গান গাইতে খুব ভালোবাসত। সে ভাবছিল, তার প্রিয় দাদা তাদের গির্জায় গানে নেতৃত্ব দেন, আর তিনি যখন কোনো গানে নেতৃত্ব দেন, তখন তার কত ভালো লাগে।
এলির গির্জায় গানে নেতৃত্ব দেওয়ার লোকেরা সবাই গির্জার মাঝামাঝি একটি টেবিলের চারদিকে বসতেন। তাঁরা পালা করে একটি গান বেছে নিতেন, তারপর মণ্ডলীর সমবেত গানে নেতৃত্ব দিতেন। বেছে নেওয়া গানগুলো এলির সবসময় জানা থাকত না। তাঁরা একটি ছোট কালো স্তবগানের বই থেকে গান গাইতেন। সেটিতে এমন অনেক গান ছিল, যেগুলোর শব্দ কঠিন আর সুর তার অপরিচিত। তবে এই ছোট গানের বইয়ের শেষ দিকে “পরিশিষ্ট” নামে একটি অংশ ছিল। সেখানে তার পরিচিত স্তবগান ছিল, আর বইয়ের সেই অংশ থেকে কোনো গান ঘোষণা করা হলে সে সবসময় খুশি হতো। তার প্রিয় গান ছিল ‘ত্রাণকর্তা, মেষপালকের মতো আমাদের পথ দেখাও’। যদিও সে তখনও পড়তে পারত না, সে জানত গানটি আট নম্বর। রবিবার সকালে সেই নির্দিষ্ট গানের নম্বর ঘোষণা করা হলে তার মনে সবসময় আনন্দের শিহরণ জাগত। এই গানটিতে সেও গলা মেলাতে পারবে!
ইস্, আমরা যদি সেই গানটি আবার গাইতাম, এলি ভাবল। কত দিন হয়ে গেল আমরা গানটি গাইনি।
তখন হঠাৎ তার মাথায় একটি ভাবনা এল। পরের রবিবার সেই গানটি বেছে নিতে সে দাদাকে অনুরোধ করতে পারে না কেন?
হ্যাঁ, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করব, দেখি এই ভাবনার ব্যাপারে তিনি কী বলেন, ভেবে সে মনে মনে হাসল। দাদা-দাদী রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত সে অপেক্ষা করবে বলে ঠিক করল। সে দাদার পিছু পিছু দরজা দিয়ে বাইরে গেল। তিনি বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সে তাড়াতাড়ি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। “দাদা,” সে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কি আগামী রবিবার ‘ত্রাণকর্তা, মেষপালকের মতো আমাদের পথ দেখাও’ গানটিতে নেতৃত্ব দিতে পারবেন? আমার খুব ইচ্ছে গানটা আবার গাই!” এমন একটি প্রশ্ন করে হঠাৎ তার লজ্জা লাগল, আর সে তাড়াতাড়ি বাড়ির দরজার দিকে সরে গেল।
দাদা নিচে তার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। “মনে হয় পারব। এই গানটা কি তোমার পছন্দ?” এলির দিকে তাকিয়ে তাঁর চোখে ঝিলিক ফুটল। “শুধু তোমার জন্যই আনন্দের সঙ্গে ওই গানে নেতৃত্ব দেব।”
পরের রবিবার গির্জায় যাওয়ার জন্য এলি আর অপেক্ষা করতে পারছিল না। সে “তার” গানটি গাইতে পারবে। দাদা বলেছিলেন, তিনি সেটি বেছে নেবেন, আর তিনি যে তাঁর কথা রাখবেন, সে বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ ছিল না।
রবিবার সকালে সে অধীর আগ্রহে গানের পর্ব শুরু হওয়ার অপেক্ষা করছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় গান তার পরিচিত ছিল না। তারপর তৃতীয় গানের পালা এল। “আসুন, পরিশিষ্টের ৮ নম্বর গানটি গাই,” গানের নেতা ঘোষণা করলেন। এলির মন আনন্দে গেয়ে উঠল। তারা তার প্রিয় গানটি গাইতে যাচ্ছে। তার দাদা তার অনুরোধ রেখেছেন। সুন্দর গানটিতে গলা মেলানোর সময় তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এটি ছিল একটি সুন্দর স্তবগান, যাতে একজন মেষপালক ও বন্ধু হিসেবে যীশুর যত্নের কথা এবং তিনি কীভাবে তাঁর সন্তানদের সবসময় নিজের কাছে রাখবেন, সে কথা বলা হয়েছে।
পরে উপাসনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এলি তার মাকে বলল, “দাদা সেই গানটাই বেছে নিয়েছেন, ঠিক যেমন আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম!”
এলির মা একটু চমকে উঠলেন। “তুমি তাঁকে আজ কোনো গানে নেতৃত্ব দিতে বলেছিলে? কখন বলেছিলে?”
“হ্যাঁ, বলেছিলাম। সেদিন সন্ধ্যায় তাঁরা যখন বেড়াতে এসেছিলেন, তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি আজ ওই গানে নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না। তিনি বলেছিলেন, দেবেন। আর তিনি দিয়েছেন!” এলি আনন্দের সঙ্গে বলল।
মায়ের মুখে এক অদ্ভুত ভাব ফুটে উঠল। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
“তুমি কি জানো, আজ দাদা-দাদী আসেননি? শেষ মুহূর্তে তাঁরা আজ সকালে উপাসনার জন্য অন্য গির্জায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।” মা তাঁর ছোট মেয়ের দিকে স্নেহভরে হাসলেন। “মনে হচ্ছে, ঈশ্বর জানতেন একটি ছোট মেয়ের মন কী চাইছিল, আর তুমি যে গানটি এত ভালোবাসো, সেটি বেছে নিতে তিনি আরেক ভাইকে পরিচালনা করেছেন। কী আশ্চর্য ব্যাপার, তাই না?” এলি মাথা নাড়ল। ভাবা যায়, দাদা আজ গির্জাতেই ছিলেন না, তবুও তারা তার প্রিয় গানটি গাইল! যীশু তার এত যত্ন নেন জেনে তার মনে এক বিশেষ অনুভূতি জাগল।
আজ এলি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী, আর এখন তার নিজেরও সন্তান আছে। যীশু তাঁর সব সন্তানের কেমন যত্ন নেন, তা যখনই সে ভাবে, তখন তার বিশেষভাবে মনে পড়ে, কীভাবে ঈশ্বর একটি ছোট পাঁচ বছরের মেয়ের ও তার এত প্রিয় গানটির বিষয়ে যত্ন নিয়েছিলেন। তার মা যেমন বলেছিলেন এবং এখনও বলেন, “অবশ্যই ঈশ্বর যত্ন নেন। তিনি পৃথিবীর সব ছোট শিশুকে ভালোবাসেন!”
ত্রাণকর্তা, মেষপালকের মতো আমাদের পথ দেখাও
ত্রাণকর্তা, মেষপালকের মতো আমাদের পথ দেখাও,
তোমার কোমল যত্ন আমাদের বড় প্রয়োজন।
তোমার মনোরম চারণভূমিতে আমাদের খাওয়াও,
আমাদের জন্য তোমার মেষশালা প্রস্তুত করো:
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
তুমি আমাদের কিনেছ, আমরা তোমার।
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
তুমি আমাদের কিনেছ, আমরা তোমার।
আমরা তোমার, তুমি আমাদের বন্ধু হও,
আমাদের চলার পথের রক্ষক হও।
তোমার মেষপালকে রক্ষা করো, পাপ থেকে আমাদের বাঁচাও,
আমরা পথ হারালে আমাদের খুঁজে নাও:
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
শোনো, ওগো শোনো, যখন আমরা প্রার্থনা করি।
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
শোনো, ওগো শোনো, যখন আমরা প্রার্থনা করি।
তুমি আমাদের গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ,
যদিও আমরা দীন ও পাপী।
আমাদের দুঃখ লাঘব করতে তোমার করুণা আছে,
শুচি করার অনুগ্রহ, আর মুক্ত করার শক্তি:
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
শৈশবেই যেন আমরা তোমার দিকে ফিরি।
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
শৈশবেই যেন আমরা তোমার দিকে ফিরি।
শৈশবেই যেন আমরা তোমার অনুগ্রহ খুঁজি,
শৈশবেই যেন আমরা তোমার ইচ্ছা পালন করি।
ধন্য প্রভু ও একমাত্র ত্রাণকর্তা,
তোমার প্রেমে আমাদের হৃদয় ভরাও:
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
তুমি আমাদের ভালোবেসেছ, এখনও ভালোবেসো।
ধন্য যীশু! ধন্য যীশু!
তুমি আমাদের ভালোবেসেছ, এখনও ভালোবেসো।
Dorothy Ann Thrupp



