খ্রিষ্টাব্দ ৪৪৯ সালে, নতুন নিয়মের বিখ্যাত নগরী ইফিষে, সারা বিশ্বের বিশপেরা এমন এক ধর্মতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সমবেত হয়েছিলেন, যেটিকে তাঁরা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন বলে মনে করতেন। বিষয়টি কী? যিশুর ব্যক্তিত্বে খ্রিষ্টের দুই স্বভাব কীভাবে সহাবস্থান করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে স্থির করতে তাঁরা চেয়েছিলেন। তিনি সম্পূর্ণরূপে ঐশ্বরিক এবং সম্পূর্ণরূপে মানব—এ বিষয়ে তাঁরা সবাই একমত ছিলেন। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। যিশুর ব্যক্তিত্বে এই দুই স্বভাব ঠিক কীভাবে বিদ্যমান ছিল, তা নিয়েই বিতর্ক। প্রথম দেখায় হয়তো মনে হবে, এটি নিশ্চয়ই ধর্মতত্ত্বের এমন সূক্ষ্ম একটি বিষয়, যা কেবল অভিজাত ধর্মতাত্ত্বিকদের জন্যই। কিন্তু না … ব্যাপারটি বড় হয়ে উঠেছিল।
বরাবরের মতো, সমস্যার মূল ধর্মতাত্ত্বিক ছিল না। ব্যক্তিগত মতপার্থক্য এবং রাজনৈতিক স্বার্থ বিবাদ ও বিরোধের আগুনে ঘি ঢেলেছিল। একটি পুরোনো কথা আছে, “কুকুরকে মারতে চাইলে, লাঠি খুঁজে পাওয়া সহজ।” শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এমন কুকুরের অভাব হয়নি।
ইফিষের ঘটনায়, বিবাদটি প্রকাশ্যে চলে আসে। স্থানীয় “খ্রিষ্টানরা”—যারা সম্ভবত খ্রিষ্টের সঞ্চারিত স্বভাবের সামান্যতম অভিজ্ঞতাও কখনো লাভ করেনি—সর্বত্র এই বিতর্কে যোগ দিচ্ছিল। আমাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো, লোকেরা পক্ষ নিচ্ছিল। এমনকি একটি বিবরণে বলা হয়েছে, ক্রীড়াঙ্গন হিপ্পোড্রোমে “খ্রিষ্টানদের” হাতায় নিজ নিজ ধর্মতাত্ত্বিক পক্ষের পরিচয়সূচক রং দেখা যেত! সত্যিই, যারা “অর্থোডক্স” নামে পরিচিত ছিল, তারা নীল পরত, আর যাদের পরে “বিধর্মী মোনোফিসাইট” বলা হয়েছিল, তারা পরত সবুজ।
ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে গেল। বিতর্কের এক পক্ষ যখন মনে করল যে পরিস্থিতি তাদের পক্ষে যাচ্ছে না, তখন একদল সন্ন্যাসী, একদল সশস্ত্র লোকের সঙ্গে, জোর করে বিতর্কের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগিয়ে গেল। সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা একটি সাদা কাগজ এনে বিশপদের দিয়ে তাতে স্বাক্ষর করাল। পরে ফাঁকা জায়গায় নিজেদের ইচ্ছামতো কথা লিখে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। স্বাক্ষর নেওয়ার পর তারা তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ ফ্লাভিয়ানের দিকে ফিরে চিৎকার করে বলল, “ওকে হত্যা করো!” সঙ্গে সঙ্গেই একদল সন্ন্যাসী বিশপকে এমন নির্মমভাবে প্রহার করল যে কয়েক দিন পর তিনি মারা গেলেন।
শেষ পর্যন্ত, বিতর্কের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে মনে হলে, সিনড গর্বভরে ঘোষণা করল, “যারা খ্রিষ্টকে বিভক্ত করে, তারা তরবারিতে বিভক্ত হোক। তাদের টুকরো টুকরো করা হোক, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হোক।” শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, এই ছোট্ট সভাটি সস্নেহে “গ্যাংস্টার সিনড” নামে পরিচিত হয়েছে।
গত রাতেই আমি লেরয় বিচিকে বলতে শুনলাম, “আমরা ইতিহাস অধ্যয়ন করি, যাতে নিজেদেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।” ইফিষের এই বিশপদের দেখে বলা সহজ হতে পারে, “বাহ, তাদের যে স্পষ্টতই কিছু সমস্যা ছিল।” ঠিক, ছিল। আশা করি, পরবর্তী ভ্রাতৃসমাবেশে আমাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য আমরা কোনো গ্যাংস্টার দল ভাড়া করব না। কিন্তু কখনো কখনো আমি ভাবি, গির্জার কঠিন বিবাদের সময় আমাদের হৃদয়ে কি আমরা স্বীকার করতে চাই তার চেয়ে বেশি ইফিষের গ্যাংস্টারদের মতো মনোভাব পোষণ করি না?
আমরা সবাই আবেগপ্রবণ গির্জা পছন্দ করি, তাই না? আচ্ছা, আবেগ দুই রকম হতে পারে: ভালো আবেগ এবং মন্দ আবেগ। আপনি যদি উগ্র গির্জা আন্দোলন এবং প্রথম প্রজন্মের পুনর্জাগরণের সময়গুলো অধ্যয়ন করেন, প্রায় সব সময়ই দেখবেন, পথ ছিল বেশ বন্ধুর। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গির্জার বিবাদের ইতিহাসের পাতা উল্টালে বোঝা যায়, প্রতিটি পক্ষই নিজেদের অবস্থান নিয়ে কতটা নিশ্চিত ছিল।
আমরা কি আলাদা? আমার মনে হয় না। দৈনন্দিন জীবনের এমন ব্যবহারিক বিষয় নিয়ে বাইবেলে অনেক কিছু বলা হয়েছে। কঠিন সময়ে আমরা সঠিক পথে আছি কি না, তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে—এমন কয়েকটি শাস্ত্রীয় নীতি দেখে নেওয়া যাক।
-
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “আমি কি ভুল প্রশ্নের সঠিক উত্তর খোঁজার ফাঁদে পড়ছি?”
ভবিষ্যতের বিরোধ সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে যিশু বলেছিলেন, “তারা তোমাদের সমাজগৃহ থেকে বের করে দেবে; এমনকি এমন সময় আসছে, যখন যে কেউ তোমাদের হত্যা করবে, সে মনে করবে যে ঈশ্বরের সেবা করছে।” যোহন ১৬:২ ইফিষের সিনডের গ্যাংস্টারদের মতো, যিশু যেসব সমাজগৃহের লোকদের কথা বলছিলেন, তারাও মনে করত যে তারা সঠিক কাজ করছে। যিশু আমাদের বলেছিলেন, তারা এমনকি মনে করত যে ঈশ্বর তাদের ওপর সন্তুষ্ট। আমার ধারণা, নিজেদের কাজের পক্ষে তাদের সবার কাছেই শাস্ত্রের ভালো উদ্ধৃতি ছিল। কিন্তু ঈশ্বরের সঙ্গে সঠিক থাকার জন্য তাদের প্রবল উদ্যম থাকা সত্ত্বেও … যিশু আমাদের জানান, তারা আসল সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছিল। তারা ভুল প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজছিল।
এই বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝাতে, এমন এক যুবকের কথা ভাবুন, যে একটি ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের সদস্য হলেও ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করার আন্তরিক চেষ্টা করছে। ঈশ্বরের ইচ্ছা জানতে চেয়ে যুবকটি তাঁকে জিজ্ঞেস করে, “আমার কি নতুন স্পোর্টস কার কেনা উচিত, নাকি ধর্মপ্রচারের কাজে যাওয়া উচিত?”
আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আমরা জানি তার দুটো প্রশ্নই ভুল। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে যুবকটির সেই ভ্রান্ত সম্প্রদায় থেকে বেরিয়ে আসা বেশি জরুরি। কিন্তু সে সেই প্রশ্নটি করছে না। এখন কল্পনা করুন, সে সেখানে বসে শাস্ত্র অধ্যয়ন করছে এবং সঠিক উত্তর পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছে। অবশেষে সে এই সিদ্ধান্তে আসে: “শাস্ত্র শিক্ষা দেয় যে স্পোর্টস কার কেনার চেয়ে ধর্মপ্রচারের কাজে যাওয়াই আমার জন্য ভালো।” বুঝতে পারছেন, সে একটি “সঠিক” উত্তর পেয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন করেছে ভুল।
“যারা খ্রিষ্টকে বিভক্ত করে, তারা তরবারিতে বিভক্ত হোক। তাদের টুকরো টুকরো করা হোক, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হোক।”
—“গ্যাংস্টার সিনড”খ্রিষ্টাব্দ ৪৪৯ সালে ইফিষের গ্যাংস্টারদের ঘটনায়, ধর্মতত্ত্বের এই সূক্ষ্ম বিষয়ে “অর্থোডক্সরা” শেষ পর্যন্ত সঠিক উত্তর পেয়েছিল কি না, তা আসল বিষয়ের তুলনায় গৌণ। কারও অন্য একটি প্রশ্ন করা উচিত ছিল। যেমন, “সহখ্রিষ্টানরা খ্রিষ্টের স্বভাব আমার মতো করে না বুঝলেই কি তাদের হত্যা করা ঠিক?” এটাই বরং ভালো প্রশ্ন হতো।
-
নিজের অন্তরের ভাব ও মনোভাবের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। গভীরে আপনি কেমন বোধ করছেন, সে বিষয়ে নির্দয়ভাবে সৎ হোন।
আমাদের হৃদয়ের আধ্যাত্মিক তাপমাত্রা মাপার জন্য যাকোবের পত্রে বেশ কিছু ভালো নির্দেশনা আছে। যাকোব বলেছেন:
তোমাদের মধ্যে জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান কে? সে সৎ আচরণের মাধ্যমে জ্ঞানের নম্রতায় নিজের কাজ দেখাক। কিন্তু তোমাদের হৃদয়ে যদি তিক্ত ঈর্ষা ও বিরোধ থাকে, তবে গর্ব কোরো না এবং সত্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা বোলো না। যাকোব ৩:১৩-১৪
যাকোব জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের চরিত্র ও আচরণই আমাদের প্রজ্ঞার উৎস প্রকাশ করবে। তাঁর পত্রের বিভিন্ন স্থানে যাকোব প্রজ্ঞার গভীর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তৃতীয় অধ্যায়ে তিনি দেখান, আমরা ভালো বা মন্দ উৎস থেকে—ঈশ্বরের কাছ থেকে বা শয়তানের কাছ থেকে—প্রজ্ঞা পেতে পারি। আরও বলেন, আমাদের প্রজ্ঞা ভুল জায়গা থেকে আসছে কি না, তা যাচাই করার একটি চমৎকার উপায় আছে।
এই প্রজ্ঞা ওপর থেকে নেমে আসেনি, বরং তা পার্থিব, ইন্দ্রিয়পরায়ণ, শয়তানি। কারণ যেখানে ঈর্ষা ও বিরোধ থাকে, সেখানে বিশৃঙ্খলা এবং সব ধরনের মন্দ কাজ থাকে। (পদ ১৫-১৬)
তাই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “আমার হৃদয়ে কি ঈর্ষা, বিরোধ বা বিশৃঙ্খলা আছে?” উত্তর দেওয়ার সময় সাবধান থাকুন। আপনার “প্রতিপক্ষের” মনোভাবে এই দোষগুলো দেখতে পাওয়া সহজ। কিন্তু ঈশ্বর চান আমরা নিজেদের হৃদয়ের দিকে তাকাই। এসব সমস্যার কোনোটি যদি সেখানে থাকে, তাহলে যাকোব আমাদের সোজাসাপ্টা বলছেন … আমরা ভুল উৎস থেকে প্রজ্ঞা পেয়েছি। এ ভয়ংকর! এর অর্থ হতে পারে, আমাদের নিজেদের বেশ বুদ্ধিমান মনে হচ্ছে। এমনকি তর্কে হয়তো আমরাই জিতছি। কিন্তু আমাদের মনোভাবে এই দোষগুলো থাকলে, আমরা “সব ধরনের মন্দ কাজ” করছি।
পৌলও তাঁর তরুণ শিষ্য তীমথিয়কে কঠোরভাবে বলেছিলেন: “আর প্রভুর দাসের ঝগড়া করা উচিত নয়; বরং সকলের প্রতি কোমল হওয়া উচিত।” ২ তীমথিয় ২:২৪ আমার মনে হয়, পৌল এখানে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছিলেন। ইফিষের “গ্যাংস্টার সিনড”-এর বিশপেরা তরবারি বের করে “যারা খ্রিষ্টকে বিভক্ত করে, তারা তরবারিতে বিভক্ত হোক। তাদের টুকরো টুকরো করা হোক, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হোক!” বলে স্লোগান দেওয়ার আগে শাস্ত্রের এই মাপকাঠিগুলো ব্যবহার করলে হয়তো ইতিহাস অন্য রকম হতো।
-
আপনার বিষয়টি কি যিশুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
বহু বছর আগে একবার আমি এমন একটি গির্জায় ছিলাম, যেখানে বড় ধরনের মতবাদগত সংকট চলছিল। এখন আর বিষয়টি কী ছিল তা মনে করতে পারি না, কিন্তু মনে আছে, তা আমাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল।
সেই রাতে আমার বারান্দায় গিয়ে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরকে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম, “কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা আপনি আমাদের সরাসরি বলে দিলেন না কেন?”
বহু বছর পর অবশেষে বুঝতে পারলাম, তিনি বলেছিলেন। যিশুর কথাগুলোই সেই “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়”। মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের নিখুঁত পরিকল্পনা জানাতে যিশু এসেছিলেন। তাঁর রাজ্যের সুসমাচারই সব সমস্যার উত্তর। যিশুর শিক্ষা এবং মানবজাতির জন্য তাঁর পরিকল্পনাই যদি আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয় হয়ে ওঠে, তাহলে গোটা পৃথিবী বদলে যাবে।
ভেবে দেখুন, শেষ কবে শুনেছেন যে গরিবদের সাহায্য না করা বা অসুস্থদের দেখতে না যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে কোনো গির্জা বিভক্ত হয়েছে? আমাদের বাইবেলের লাল অক্ষরে লেখা যিশুর বাণীতে যদি আমরা পরিপূর্ণ হতে পারি, তাহলে ঈশ্বরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমরা সহজাতভাবেই বুঝতে পারব। আবারও, ইফিষের সেই ভয়াবহ বিতর্কের কথা তুলছি … ভেবে দেখুন। খ্রিষ্টের দুই স্বভাব কীভাবে এক ব্যক্তির মধ্যে মিশে থাকতে পারে, তার ভুল সংজ্ঞা দেওয়ার জন্য লোকদের বহিষ্কার না করে, ইফিষের বিশপেরা যদি মানুষকে পৃথিবীতে ধন সঞ্চয় করা, কারাগারে লোকদের দেখতে না যাওয়া (অন্য বিশ্বাসীদের কুপিয়ে দ্বিখণ্ডিত করার কথা তো বাদই দিলাম) ইত্যাদি কারণে শাসন করতেন?
লূক যিশুর এই কথা লিখেছেন: “যে আমার পক্ষে নয়, সে আমার বিপক্ষে; আর যে আমার সঙ্গে সংগ্রহ করে না, সে ছড়িয়ে দেয়।” লূক ১১:২৩ আমি জানি, আমরা সবাই বলতে চাই যে আমরা “যিশুর পক্ষে”। কিন্তু তিনি যা বলেছেন, আমরা কি সত্যিই তা আঁকড়ে ধরি? খ্রিষ্টের শিক্ষাই কি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? যিশু যা বলেছেন, তাঁর প্রতিটি কথার অর্থ তিনি সত্যিই বুঝিয়েছেন—আমরা কি তা বিশ্বাস করি? এই অংশে যিশু বলছেন, আমরা যদি তাঁর সঙ্গে “সংগ্রহ” না করি, তাহলে আমরা বিভেদ সৃষ্টি করি।
নতুন নিয়ম জুড়ে খ্রিষ্টীয় ঐক্য একটি অপরিহার্য বিষয়। আর যেহেতু যিশুর শিক্ষার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পৃথিবীতে নতুন রাজ্যের সূচনা, তাই আমাদের অবশ্যই একে গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। প্রকাশিত বাক্যের সাতটি মণ্ডলীর প্রতি যিশুর তিরস্কার দেখায়, প্রতিটি যুগের সংকট মোকাবিলা করার সময়ও তিনি আশা করেন, মণ্ডলী যেন তাঁর “কণ্ঠ শোনে” এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে। প্রকাশিত বাক্য ২, ৩
মণ্ডলীর ঐক্য যিশুর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল। তিনি বলেছিলেন, আমাদের ঐক্যের ওপর তাঁর সাক্ষ্য নির্ভর করছে। “তারা সকলে যেন এক হয়; হে পিতা, তুমি যেমন আমার মধ্যে, আর আমি তোমার মধ্যে, তেমনি তারাও যেন আমাদের মধ্যে থাকে; যাতে জগৎ বিশ্বাস করে যে তুমি আমাকে পাঠিয়েছ।” মনে রাখবেন, সেই একই প্রভু আমাদের সত্য খ্রিষ্টীয়তার আরেকটি প্রমাণও দিয়েছেন: “তোমরা যদি পরস্পরকে ভালোবাস, তবে এর দ্বারা সবাই জানবে যে তোমরা আমার শিষ্য।” যোহন ১৩:৩৫
যিশু যথার্থই বলেছেন: “মেষপালককে আঘাত কর, আর পালের মেষেরা ছড়িয়ে পড়বে।” মথি ২৬:৩১
ঈশ্বরের লোকেরা যত দিন খ্রিষ্টের শিক্ষাকে অবজ্ঞা করবে, গির্জা তত দিন ছড়িয়ে পড়বে।
তাই পরের বার নিজেকে কোনো গির্জার সংকট বা ধর্মতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের মধ্যে পেলে, নিজেকে এই তিনটি প্রশ্ন করুন:
- আমি সঠিক বলে মনে করলেও, ভুল প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজছি কি না—এমনটা কি হতে পারে?
- আমি কি আমার অন্তরের ভাব ও মনোভাবের ব্যাপারে সতর্ক? গভীরে আমি কেমন বোধ করছি, সে বিষয়ে কি সৎ?
- এই বিষয়টি কি খ্রিষ্টের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, নাকি এটি খ্রিষ্টের আত্মার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? ~



