
একজন লোক রাস্তার পাশে একটি বড় পাখির খাঁচা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
একটি ছেলে লক্ষ করল, খাঁচাটি নানা জাতের পাখিতে ভরা।
“এই পাখিগুলো কোথা থেকে পেলে?” সে জিজ্ঞেস করল।
“ওহ, এদিক-ওদিক সব জায়গা থেকে,” লোকটি উত্তর দিল। “আমি তাদের টুকরো খাবার দিয়ে প্রলুব্ধ করি আর ভান করি যে আমি তাদের বন্ধু। তারপর যখন তারা কাছে আসে, আমি জাল দিয়ে ধরে খাঁচায় গুঁজে দিই।”
“আর এখন ওদের নিয়ে কী করবে?”
লোকটি দাঁত বের করে হাসল। “আমি লাঠি দিয়ে খোঁচাব, ওদের খুব রাগিয়ে তুলব, যাতে তারা মারামারি করে একে অন্যকে মেরে ফেলে। যারা বেঁচে থাকবে, তাদের আমি মেরে ফেলব। কেউ পালাতে পারবে না।”
ছেলেটি স্থির দৃষ্টিতে লোকটির দিকে তাকাল। কী তাকে এমন কাজ করতে বাধ্য করল? সে লোকটির নিষ্ঠুর, কঠিন চোখের দিকে তাকাল। তারপর পাখিগুলোর দিকে তাকাল—অসহায়, আশাহীন।
“আমি কি পাখিগুলো কিনতে পারি?” ছেলেটি জিজ্ঞেস করল। লোকটি হাসি চাপল। সে বুঝতে পারল, ঠিকমতো দর কষাকষি করতে পারলে ভালো লাভ হতে পারে।

“আচ্ছা,” সে দ্বিধার সঙ্গে বলল, “খাঁচাটার দাম বেশ চড়া, আর এই পাখিগুলো জোগাড় করতে আমার অনেক সময় লেগেছে। বলি কী, পাখি, খাঁচা—সব মিলিয়ে দশ পাউন্ড আর তোমার পরনের ওই জ্যাকেটের বিনিময়ে সব দিয়ে দেব।”
ছেলেটি থমকে গেল। তার কাছে ছিল মাত্র দশ পাউন্ড, আর জ্যাকেটটি ছিল নতুন ও খুব বিশেষ—আসলে সেটিই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। ধীরে ধীরে সে দশ পাউন্ড বের করে লোকটির হাতে দিল, তারপর আরও ধীরে জ্যাকেটটি খুলে শেষবারের মতো সেটির দিকে তাকিয়ে সেটিও লোকটির হাতে তুলে দিল।
সে লোকটির কাছ থেকে খাঁচাটি নিল। তারপর (হ্যাঁ, হয়তো তোমরা অনুমান করেছ) দরজা খুলে পাখিগুলোকে মুক্ত করে দিল।
জগতের শত্রু শয়তান জীবনের পথের পাশে একটি অত্যন্ত বড় খাঁচা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
তার দিকে এগিয়ে আসা লোকটি লক্ষ করল, খাঁচাটি সব ধরনের মানুষে ঠাসা—তরুণ, বৃদ্ধ, প্রত্যেক জাতি ও দেশের মানুষ।
“এই মানুষগুলো কোথা থেকে পেলে?” লোকটি জিজ্ঞেস করল।
“ওহ, সারা পৃথিবী থেকে,” শয়তান উত্তর দিল। “আমি মদ, মাদক, কামনা, মিথ্যা, রাগ, ঘৃণা, অর্থের প্রতি ভালোবাসা আর আরও নানা জিনিস দিয়ে তাদের প্রলুব্ধ করি। ভান করি যে আমি তাদের বন্ধু, তাদের আনন্দ দিতে এসেছি। তারপর যখন তাদের ফাঁদে ফেলি, তারা খাঁচায় যায়।”
“আর এখন ওদের নিয়ে কী করবে?” লোকটি জিজ্ঞেস করল।
শয়তান দাঁত বের করে হাসল। “আমি তাদের খোঁচাব, উসকে দেব, তাদের একে অন্যকে ঘৃণা ও ধ্বংস করতে লাগাব; জাতিগত বিদ্বেষ আর আইনশৃঙ্খলার প্রতি অবাধ্যতা উসকে দেব; মানুষকে বিরক্ত, নিঃসঙ্গ, অসন্তুষ্ট, বিভ্রান্ত ও অস্থির করে তুলব। এটা সহজ। মানুষ সবসময় আমার দেওয়া প্রস্তাবে কান দেবে, আর তার চেয়েও ভালো কথা—এর পরিণতির জন্য ঈশ্বরকে দোষ দেবে!”
“তারপর কী?” লোকটি জিজ্ঞেস করল।
“যারা নিজেদের ধ্বংস করবে না, তাদের আমি ধ্বংস করব। কেউ আমার হাত থেকে পালাতে পারবে না।”
লোকটি এগিয়ে এল। “আমি কি এই মানুষগুলোকে তোমার কাছ থেকে কিনতে পারি?” সে জিজ্ঞেস করল।
শয়তান গর্জে উঠল, “হ্যাঁ, তবে এর মূল্য দিতে হবে তোমার জীবন দিয়ে।” তাই ঈশ্বরের পুত্র যিশু খ্রিস্ট কালভেরির ক্রুশে নিজের জীবন দিয়ে তোমাদের মুক্তির মূল্য দিয়েছেন—শয়তানের ফাঁদ থেকে তোমাদের স্বাধীন করেছেন। দরজা খোলা, আর শয়তানের দ্বারা প্রতারিত হয়ে খাঁচাবন্দি যে কেউ মুক্ত হতে পারে।
তোমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে সদাপ্রভুর
উপর বিশ্বাস করো;
নিজের বুদ্ধির উপর নির্ভর
কোরো না।
তোমার সমস্ত পথে তাঁকে স্বীকার করো,
আর তিনি তোমার পথ সরল করবেন।হিতোপদেশ ৩:৫-৬



